সমস্ত সত্যই যেন আপেক্ষিক। সমস্ত স্থিরতাও যেন কেবল এক মায়া।
আসলে স্থিরতা বলে কিছুই নেই। সবকিছুই নিজের অদৃশ্য গতিপথে অবিরাম ঘুরে চলেছে। নক্ষত্র, গ্রহ, সময়, জীবন—সবই অনন্ত গতির কাছে নতজানু।
সৃষ্টির ভেতর প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে নতুন আলো, আর নিঃশব্দে বিলীন হচ্ছে অন্ধকার। কোথাও সৃষ্টি, কোথাও ধ্বংস; কোথাও শুরু, কোথাও সমাপ্তি। অনন্ত শক্তির এই মহাজাগতিক খেলায় আমরা সবাই ক্ষণিকের পথিক।
কিন্তু একদিন, যখন অসুস্থ শরীর নিয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়বেন, তখন পৃথিবীটাকে বড় অচেনা, বড় নিঃসঙ্গ মনে হতে পারে। যে পৃথিবী কিছুক্ষণ আগেও রঙে, আলোয় আর কোলাহলে ভরা ছিল, হঠাৎই মনে হবে তার আকাশ জুড়ে নেমে এসেছে এক গভীর কালো মেঘ।
তবু দোষ কিন্তু শরীরের নয়, দোষ পৃথিবীরও নয়।
দোষ কেবল সময়ের—যে সময় আমাদের অনুভূতির রং বদলে দেয়।
সুস্থ থাকলে পৃথিবীকে আমরা সম্ভাবনার আলোয় দেখি, আর অসুস্থ হলে সেই একই পৃথিবীকে দেখি বিষণ্নতার ছায়ায়। পৃথিবী একই থাকে; বদলে যায় শুধু আমাদের দেখার চোখ। আর সেই চোখের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে জীবনের এক গভীর সত্য—আমাদের উপলব্ধির অনেকটাই আপেক্ষিক।
জীবনের আরেকটি নির্মম সত্য হলো—প্রিয় মানুষের স্মৃতি।
যে মানুষটির হাসিমাখা, প্রাণবন্ত, পরিচিত মুখটি দেখে আপনি অভ্যস্ত, সেই মুখটিই হৃদয়ে গেঁথে রাখুন। জীবনের শেষ প্রান্তে অসুস্থতা বা মৃত্যুর পরে তাঁর বদলে যাওয়া, অপরিচিত মুখের স্মৃতি অনেক সময় অযথা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ভালোবাসার মানুষকে মনে রাখুন তাঁর সুস্থ, স্বাভাবিক, প্রাণবন্ত রূপেই। কারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকে আমাদের স্মৃতিতে, আর সেই স্মৃতিই তার সবচেয়ে সুন্দর পরিচয়।
