ঠাকুমা

ঠাকুমা

অফিসে কাজ করছি আজ, বেশ হ্যাপা গেছে কাজের।
হঠাৎ আমার ঠাকুমার কথা মনে পড়ল।
মাঝেমাঝেই উনি স্বপ্নে আসেন।

সে যাই হোক, কথা হলো —
ঠাকুমা ছিলেন একদম কালো,
আর বড়দাদা (দাদু) ছিলেন ভীষণ ফর্সা,
খুব সুন্দর দেখতে।

ঠাকুমার হাতের কাজ দেখে দাদু এই বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন।
আমাদের বাবা-জ্যাঠার ঘরে প্রতিটি ছেলে ফর্সা,
আর মেয়েগুলো কালো।
ব্যতিক্রম আমি।

আগেকার দিনে এই কালো-ফর্সা বিষয়টা এক বড় ব্যাপার ছিল।
গায়ের রঙ দিয়েই নাকি বিচার হতো মানুষকে।

সে যাই হোক, আমার ঠাকুমা ভীষণ খুশি হতেন
যদি ওনার নাতি-নাতনিরা কালো জন্মাতো।
এদিকে আমার দুই জ্যাঠিমার ঘরে মেয়েগুলো কালো বলে
তাদের দুঃখের যেন শেষ ছিল না!

কি সব কাণ্ড ভাবুন!
কিন্তু ঠাকুমা মনে মনে বেজায় খুশি হতেন।

এবার আমার আশার পালা —
আমার মা নাকি তখন ভীষণ টেনশনে ছিলেন,
যদি আমি কালো হই তাহলে কী হবে!

যখন আমি পৃথিবীতে এলাম,
সবাই খুশি,
কিন্তু গায়ের রঙ দেখে ঠাকুমা মোটেও খুশি হননি।

মা জিজ্ঞেস করেছিলেন,
“কি মা, খুশি হননি?”
ঠাকুমা নাক উঁচিয়ে হেসে বলেছিলেন —
“যা হবার হয়েছে, সুন্দরী হয়েছে!
ওর দাদু যেমন ছিল, উনিও মনে হয় মেয়ে রূপে এসেছে।
ওর নাম রাখলাম সুন্দরী।”

এদিকে আমার ঠাকুমা যতদিন বেঁচে ছিলেন,
সবচেয়ে আমার কাছের মানুষ ছিলেন উনি।
আমাকে সাংঘাতিক ভালোবাসতেন।

আমার কোথাও ব্যথা লাগলে মা’কে বকতেন,
আর আমায় বুকে টেনে নিয়ে আদর করতেন।

বেশ বড় হয়েও আমি ঠাকুমার তেলমাখা গায়ের গন্ধ শুঁকতাম।
তাকে জড়িয়ে ধরে বলতাম, “তুমি আমার বুড়ি!”
ঠাকুমা হেসে বলতেন,
“তুই তো আগের জন্মে আমার বর ছিলি লো!”
আমি হেসে বলতাম, “ধ্যাত!” 😄

সেদিন এই ৯৯ বছরের ঠাকুমার সামনে যেতেই
উনি আমায় জড়িয়ে ধরলেন।
কেমন যেন ঠাকুমার গায়ের গন্ধ পেলাম —
অদ্ভুত এক শান্তি পেলাম!

আমার কালো বুড়িটা আর একটু যদি বাঁচতো,
কি ভালোই না হতো! ❤️

ঠাকুমা, তোমার কোলে মাথা দিয়ে
আরও অনেক গল্প হয়নি গো…
তোমার সুন্দরী তোমায় মিস করে সবসময়। 😃🥰

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *